.
আইনস্টাইন
.
নামঃ আলবার্ট আইনস্টাইন।
বাবাঃ হেরমান আইনস্টাইন
জন্মঃ মার্চ ১৪, ১৮৭৯
জন্মস্থানঃ উল্ম, উরটেমবার্গ (Württemberg), জার্মানি।
মৃত্যুঃ এপ্রিল ১৮, ১৯৫৫ (৭৬ বছর) , প্রিন্সটন, নিউ জার্সি, যুক্তরাষ্ট্র।
বাসস্থানঃ জার্মানি, ইতালি, সুইজারল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
স্ত্রীঃমিলেভা মেরিক (১৯০৩ সালের ৬ জানুয়ারি বিয়ে করেন)
সন্তানঃ কন্যা Lieserl Einstein- (জন্ম হয় তাদের বিয়ের আগে), হ্যান্স আলবার্ট আইনস্টাইন (পুত্র), এদুয়ার্দ আইনস্টাইন (পুত্র)।
নাগরিকত্বঃ জার্মান (১৮৭৯-৯৬, ১৯১৪-৩৩), সুইজারল্যান্ডীয় (১৯০১-৫৫), মার্কিন (১৯৪০-৫৫)
কর্মক্ষেত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান।
প্রতিষ্ঠানঃ সুইজারল্যান্ডীয় পেটেন্ট অফিস(বার্ন), জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়, চার্লস ইউনিভার্সিটি অফ প্রাগ, প্রুশীয় বিজ্ঞান একাডেমি, কাইজার ভিলহেল্ম ইনস্টিটিউট, লিডেন বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিস।
প্রাক্তন ছাত্রঃ ইটিএইচ জুরিখ।
ষ্টাঃ আলফ্রেড ক্লাইনার।
পপিএইচডি উপদেরিচিতির কারণঃ সাধারণ আপেক্ষিকতা, বিশেষ আপেক্ষিকতা, ব্রাউনীয় গতি, আলোক তড়িৎ ক্রিয়া, ভর-শক্তি সমতুল্যতা, আইনস্টাইনের ক্ষেত্র সমীকরণ, একীভূত ক্ষেত্র তত্ত্ব, বসু-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান, ইপিআর হেঁয়ালি।
উল্লেখযোগ্য পুরস্কারঃ পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার (১৯২১), কপলি মেডেল (১৯২৫), ম্যাক্স প্লাংক মেডেল (১৯২৯)।
.
তিনি বলেছেন"ধর্ম ছাড়া যে বিজ্ঞান সেটা হল পঙ্গু আর বিজ্ঞান ছাড়া যে ধর্ম সেটা হল অন্ধ"।
-
তিনি তার স্ত্রী মিলেভা সম্বন্ধে বলেছলেন, "মিলেভা এমন এক সৃষ্টি যে আমার সমান এবং আমার মতই শক্তিশালী ও স্বাধীন"।
-
বাঙালি পদার্থবিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু এবং আলবার্ট আইনস্টাইন যৌথভাবে "বসু আইনস্টাইন পরিসংখ্যান" আবিষ্কার করেন।
-
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর আগে আগে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টকে একটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে তিনি জার্মানী "ভিন্ন ধরনের অসম্ভব শক্তিশালী বোমা বানাতে পারে" মর্মে সতর্কতা উচ্চারণ করে আমেরিকাকেও একই ধরনের গবেষণা শুরুর তাগিদ দেন।
-
তাঁর এই চিঠির মাধ্যমেই ম্যানহাটন প্রজেক্টের কাজ শুরু হয়। আইনস্টাইন মিত্রবাহিনীকে সমর্থন করলেও পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের বিরুদ্ধে ছিলেন। পরে ব্রিটিশ দার্শনিক বার্টান্ড রাসেলের সঙ্গে মিলে আণবিক বোমার বিপদের কথা তুলে ধরে রাসেল-আইনস্টাইন ইশতেহার রচনা করেন।
-
আইনস্টাইনের গবেষণাকর্মসমূহ বিধৃত রয়েছে ৫০টিরও অধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র এবং কিছু বিজ্ঞান-বহির্ভূত পুস্তকে।
-
১৯৯৯ সালে টাইম সাময়িকী আইনস্টাইনকে "শতাব্দীর সেরা ব্যক্তি" হিসেবে ঘোষণা করে। এছাড়া বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানীদের একটি ভোট গ্রহণের মাধ্যমে জানা গেছে, তাকে প্রায় সবাই সর্বকালের সেরা পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
-
সাধারণ সংস্কৃতি এবং দৈনন্দিন ব্যবহারে মেধাবী এবং প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন কাউকে বা কোনো কিছুকে বুঝাতে এখন তাই "আইনস্টাইন" শব্দটি ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ এটি মেধার সমার্থক।
.
বাল্যকাল ও প্রাথমিক শিক্ষাঃ
১২ বছর বয়সে আইনস্টাইন হঠাৎ বেশ ধার্মিক হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু বিজ্ঞান বিষয়ক বই পড়ার পর থেকে তার ধর্মীয় চেতনা কমে যেতে থাকে। কারণ বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের সাথে তার ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরোধ লেগে যাচ্ছিলো।
-
এক শিক্ষক অবশ্য আইনস্টাইনকে বলেই বসেছিলেন যে তাকে দিয়ে মহৎ কিছু হবে না।
.
দেশত্যাগঃ
আইনস্টাইনের বয়স যখন ১৫ তখন তার বাবা প্রতিনিয়ত ব্যবসায় ক্ষতির শিকার হতে থাকেন।
অগত্যা হেরমান সপরিবারে ইতালিরমিলানে পাড়ি জমান।
-
মিলানের পর কয়েক মাস তারা পাভিয়া-তে থাকেন। সে সময়েই আইনস্টাইন জীবনের প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র লিখেন যার নাম "চৌম্বক ক্ষেত্রে ইথারের অবস্থা সংক্রান্ত অনুসন্ধান" (The Investigation of the State of Aether in Magnetic Fields)।
-
বাবা তাকে মিউনিখের একটি বোর্ডিং হাউজে রেখে গিয়েছিলেন পড়াশোনা শেষ করার জন্য। একা একা তার জীবন দুঃসহ হয়ে উঠে। একে স্কুলের একঘেয়ে পড়াশোনা তার উপর ১৬ বছর বয়স হয়ে যাওয়ায় সামরিক দায়িত্ব পালনের চাপ তাকে হাপিয়ে তোলে। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার মাত্র ৬ মাস পরেই তাই মিউনিখ ছেড়ে পাভিয়াতে তার বাবা-মার কাছে চলে যান।
ইতালিতে তাকে কোন স্কুলে ভর্তি করাননি তারা। তাই মুক্ত জীবন কাটাতে থাকেন তিনি। ডাক্তারের চিকিৎসাপত্রের অজুহাত দেখিয়ে তিনি স্কুল থেকে চলে এসেছিলেন।
-
এসময় আইনস্টাইনের একটি সুযোগ আসে। তিনি সুইজারল্যান্ডেরজুরিখে অবস্থিত Eidgenössische Polytechnische Schule নামক প্রতিষ্ঠানে ভর্তির একটি সুযোগ পান।
যদিও তার হাই স্কুল বা সমমানের কোন ডিগ্রি ছিলনা। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। ফলাফল দিলে দেখা যায়, তিনি পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতে ভাল করেছেন, কিন্তু অকৃতকার্য হয়েছেন ফরাসি ভাষা, রসায়ন এবং জীববিজ্ঞানে।
-
গণিতে অনেক ভাল করার জন্য তাকে পলিটেকনিকে ভর্তি করে নেয়া হয় এক শর্তে, তাকে সাধারণ স্কুলের পর্যায়গুলো অতিক্রম করে আসতে হবে। তিনি সুইজারল্যান্ডের আরাইতে জস্ট উইন্টেলার কর্তৃক পরিচালিত একটি বিশেষ ধরনের স্কুলে ভর্তি হন এবং ১৮৯৬ সালে সেখান থেকে স্নাতক হন।
-
একই সময়ে সামরিক দায়িত্ব পালন এড়ানোর জন্য তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জার্মান নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন,এরপর প্রায় ৫ বছর তিনি কোন দেশেরই নাগরিক ছিলেননা।
-
১৯৩৩ সালে এডলফ হিটলার জার্মানিতে ক্ষমতায় আসেন, সে সময় তিনি বার্লিন একাডেমি অব সায়েন্সের অধ্যাপক ছিলেন। ইহুদী হওয়ার কারণে আইনস্টাইন সে সময় দেশত্যাগ করে আমিরেকায় চলে আসেন এবং আর জার্মানিতে ফিরে যান নি।
.
বিয়েঃ
Sofia Marie-Jeanne Amanda Winteler (ডাকনাম মেরি) ছিল তার প্রথম প্রেম। কিন্তু, ইটিএইচ জুরিখে গণিত অধ্যয়নের সময় মেরি শিক্ষকতার জন্য ওল্সবার্গে চলে যায়
-
জুরিখের দিনগুলি তার খুব সুখে কেটেছিলো।
সেখানেই তার সাথে মিলেভা মেরিকের দেখা হয়। তাদের বন্ধুত্ব প্রেমে গড়ায় এবং এই মিলেভাকেই পরবর্তীকালে বিয়ে করেন।
-
আইনস্টাইন ১৯০০ সালে ইটিএইচ থেকে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে বের হন।
পেটেন্ট অফিসঃ
পেটেন্ট অফিসে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে তিনি বৈদ্যুতিক সংকেতের সঞ্চালন এবং সময়ের বৈদ্যুতিক-যান্ত্রিক সামঞ্জস্য বিধান বিষয়ে কিছু গবেষণা করেছিলেন। তখন সঙ্কালিক সময় বিষয়ক চিন্তাধারায় দুটি প্রধান কৌশলগত সমস্যা ছিল। এই সমস্যাগুলো নিয়ে চিন্তা করতে গিয়েই সে সময়ে তিনি আলোর প্রকৃতি এবং স্থান ও কালের মধ্যে মৌলিক যোগসূত্র বুঝতে পেরেছিলেন।
-
১৯০৫ সালে পেটেন্ট অফিসে কর্মরত থাকাকলিন সময়ে আইনস্টাইন Annalen der Physik নামক জার্মান বিজ্ঞান সাময়িকীতে চারটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন।
.
চারটি গবেষণাপত্র বিজ্ঞানের ইতিহাসে বিস্ময়কর ঘটনা হিসেবে স্বীকৃত এবং এগুলোর কারণেই ১৯০৫ সালকে আইনস্টাইনের জীবনের "চমৎকার বছর" হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
-
১৯০৬ সালে পেটেন্ট অফিস আইনস্টাইনকে টেকনিক্যাল পরীক্ষকের পদে উন্নীত করে।
১৯০৮ সালে বার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের privatdozent হিসেবে যোগ দেন।
১৯১০ সালে তিনি ক্রান্তীয় অনচ্ছতা বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র লিখেন। এর মাধ্যমেই আকাশ কেন নীল দেখায় তার রহস্য উন্মোচিত হয়।
-
১৯১১ সালেজুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন আইনস্টাইন। অবশ্য এর পরপরই চার্লস ইউনিভার্সিটি অফ প্রাগে পূর্ণ অধ্যাপকের পদ গ্রহণ করেন।
-
প্রাগে অবস্থানকালে আলোর উপর মহাকর্ষের প্রভাব বিশেষত মহাকর্ষীয় লাল সরণ এবং আলোর মহাকর্ষীয় ডিফ্লেকশন বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র লিখেন। এর মাধ্যমে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সূর্যগ্রহনের (Solar eclipse) সময় আলোর ডিফ্লেকশনের কারণ খুঁজে পান।
.
মৃত্যুঃ
১৮ এপ্রিল, ১৯৫৫ সালে ৭৬ বছর বয়সে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
.